পোকায় ‘বিবর্ণ’ কৃষকের স্বপ্ন!
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

পোকায় ‘বিবর্ণ’ কৃষকের স্বপ্ন!

মেজবা উদ্দিন পলাশ, কুষ্টিয়া ৪:০৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২১

পোকায় ‘বিবর্ণ’ কৃষকের স্বপ্ন!
যতদূর চোখ যায় দেখা মেলে ফসলের মাঠে শরতের বাতাসে দুলছে রোপা আমন ধান। দূর থেকে সুন্দর দেখালেও কাছ থেকে দেখা মিলবে ধানক্ষেতের ক্ষতবিক্ষত চিত্র। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের মাঠে বেড়েছে পোকার উপদ্রব। ধানের গোছায় পোকার আক্রমণে শুকিয়ে যাচ্ছে গাছ। পোকা নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কুষ্টিয়ার কৃষক। এতে ধান গাছ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় ৮৮ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমিতে উফশী, ১০ হাজার ৪৭৪ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং ১ হাজার ৩৩ হেক্টর জমিতে করা হয়েছে স্থানীয় রোপা আমনের চাষ। 

দেখা গেছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উফশী ধানের চাষ কম হলেও বেড়েছে অন্য জাতের ধানের আবাদ। ধান গবেষণা উদ্ভাবিত ও বিনা উদ্ভাবিত ৩৪ জাতের উফশী, ১২ জাতের হাইব্রিড ও ২টি স্থানীয় জাতের ধান চাষ করেছেন কৃষকরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে স্বর্ণা (১১ হাজার ৯৪৭ হেক্টর), ব্রিধান-৪৯ (১০ হাজার ৪১৬ হেক্টর) ও ব্রিধান-৩৯ (১০ হাজার ১৫৩ হেক্টর) চাষ করা হয়েছে। হাইব্রিড ধানের মধ্যে রয়েছে ধানীগোল্ড (পাঁচ হাজার ৮২১ হেক্টর), এটুজেড-৭০০৬ (দুই হাজার ৫৫৪ হেক্টর) ও মাহিকো-১ (৫২০ হেক্টর)।

এছাড়া কুষ্টিয়ার দুটি স্থানীয় জাত কালোজিরা ও বাদশা ভোগের চাষ হয়েছে এক হাজার ৩৩ হেক্টর জমিতে।

মিরপুর উপজেলায় ৪৫ হেক্টর জমিতে এবং খাটোবাবু ও ভেড়ামারায় ৫০০ হেক্টর জমিতে শুরু হয়েছে রূপসা জাতের চাষ।

জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর জেলায় চার লাখ ৪৪ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন রোপা আমন উৎপাদিত হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ থেকে পাওয়া যাবে দুই লাখ ৯৬ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন চাল। আবার, রোপা আমনে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হলেও উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। জেলাজুড়ে দেখা গেছে মাজরা বা কারেন্ট পোকার উপদ্রব। কৃষকরা কীটনাশক দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

জেলার বিভিন্ন এলাকার ধান ক্ষেত্রের মাঠে প্রায় অধিকাংশ জমিতে দেখা গেছে পোকার উপদ্রব।

জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, এবার রোপা আমন ধান বেশ ভালো হয়েছে। তবে মাজরা পোকা আক্রমণ করেছে খুব। কীটনাশক দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। ধানক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করতে করতে দিশেহারা আমরা। তাই এবার পোকার কারণে ফলন কম হতে পারে। 

মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়ন এলাকার কৃষক রাজিব মন্ডল বলেন, ধানে মাজরা পোকা আক্রমণ করেছে। হাজার হাজার টাকার কীটনাশক দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। এবার আমাদের স্বপ্ন ভাঙার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, জেলায় কৃষকরা ধান চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ বছর জলবায়ুর কারণে পোকার আক্রমণ একটু বেশি। তবে আমরা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছি কৃষকদের। 

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হায়াত মাহমুদ বলেন, পোকার আক্রমণ কমে গেছে। কৃষি অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। তারা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছে কৃষকদের।

এসবি
 

আরও পড়ুন

আরও