করোনা প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১ | ১০ বৈশাখ ১৪২৮



করোনা প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:১৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৬, ২০২১

করোনা প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি
আবারও দাপট বেড়েছে করোনার। এবার যেন আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ক্ষতির পরিমানও বেড়েছে অনেক। প্রথম বার যেমন বার বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি বলা হচ্ছে এবারও ঠিক তেমন। কারণ অতীতের অনেক মহামারী ও প্রাণঘাতী যেকোনো রোগের সময় দেখা গিয়েছে অপরিচ্ছন্নতার কারণেই বেশি ছড়ায়। বর্তমানে করোনার ক্ষেত্রেও তাই।
জীবনযাত্রা/কেনাকাটা/ক্যাটাগরি লিড/ছবি আছে/পরিবর্তন ডেস্ক
বারবার হাত না ধোয়া, ঘরের প্রতিটা জিনিস পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত না থাকলে এর থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব না। তাই করোনা প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বনের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত থাকা। করোনার দ্রুত সংক্রমণ রোধে আমরা আমাদের বাড়িকে নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারি। আসুন তাহলে জেনে নেই পরিষ্কার পরিচ্ছনতার কিছু জরুরি ও সহজ উপায়।

এখন আপনি বাড়িতে থাকলেও দিনে অন্তত দুই বার জামাকাপড় বদলাতে হবে আমাদের। কারণ, ব্যবহৃত পোশাকে সব সময়েই নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস এসে জমে। এই পরিস্থিতিতে যা খুবই বিপজ্জনক। সারা দিনে একই জামা পড়ে থাকলে সেখান থেকেই সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে যায়।

এছাড়া বাড়িতেও বারবার দুটি হাত সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে ধুয়ে ফেলা উচিত। না হলে দরজা, জানালা, টেবিল, চেয়ার ছোঁয়ার পর সেখান থেকেও গৃহবন্দী হওয়া সত্ত্বেও বাড়ির লোকজন সংক্রমিত হতে পারেন।

ঘরের মেঝে বা দেওয়ালের নিচের দিকের অংশগুলো দিনে অন্তত দুবার ভালোভাবে ঝাড়ু দিতে হবে। তারপর ফিনাইলের মতো পদার্থ পানিতে মিশিয়ে সেই সব জায়গা ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। যিনি ঘর পরিষ্কার করছেন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে তাঁকে অবশ্যই মুখে মাস্ক পরে থাকতে হবে। না হলে তার থেকেই ছড়াতে পারে সংক্রমণ। কারণ, ঘরের ধুলাবালিতে মিশে থাকা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ায় সবচেয়ে কাছে আসছেন তিনিই।

ঘর পরিষ্কার করার সময় হাতে গ্লাভস পরারও প্রয়োজন। আর ঘর পরিষ্কার করার পর খুব ভালোভাবে হাত সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, বাড়িতে যেনো কোনোভাবেই আবর্জনা না জমে থাকে। তার জন্য যাবতীয় আবর্জনা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে।

বাড়িতে রান্নাবান্না বা খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। হাতে গ্লাভস পরে নিলে ভালো হয়, না হলে রান্নাবান্না ও পরিবেশনের আগে হাত সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে খুব ধুয়ে ফেলতে হবে।

যাদের বাড়িতে প্রচুর গাছ রয়েছে, তাদেরও গাছ পরিচর্যার সময় বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। হাতে পরে নিতে হবে গ্লাভস।

প্রতিবার খাবার রান্না বা প্রস্তুতের আগে ও পরে, খাবার খাওয়ার আগে ও পরে, বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে, প্রয়োজনে বাইরে থেকে বাসায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। সাবান-পানি তাৎক্ষণিকভাবে না পাওয়া গেলে হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করতে হবে।

বাড়ির প্রতিটি ঘরে টিস্যু বা কিচেন রোল রাখুন, যাতে কাশি বা হাঁচির সময় হাত বাড়ালেই টিস্যু পাওয়া যায়। টিস্যু বা ময়লা ফেলার পাত্রটি ঢাকনাযুক্ত হলে ভালো। কাঁচা মাছ-মাংসের বর্জ্য একটি পলিথিনে মুড়ে মুখ আটকে বিনে ফেলুন। এরপর অবশ্যই হাত সাবান দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন। রান্না আর কাটাকুটির কাজে ব্যবহৃত বোর্ড, ছুরি, বঁটি সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে রাখুন।

বাড়িতে যাতে পোকামাকড় বা মশার উপদ্রব না বেড়ে যায়, সেটাও এখন খেয়াল রাখতে হবে। তার জন্য বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় ব্লিচিং পাউডার ছড়াতে হবে। কীটনাশক স্প্রে করতে হবে দিনে-রাতে বেশ কয়েক বার। মশা মারার ওষুধ, ধূপ বা তেলের ব্যবহার করতে হবে।

ওস/ইসি
 

আরও পড়ুন

আরও