ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব খাবার
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১ | ৩০ চৈত্র ১৪২৭

ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব খাবার

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৩, ২০২১

ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব খাবার
এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১০ শতাংশ ক্যানসারের মূল কারণ কোনো না কোনো খাবার। বহু ক্যানসার যেমন খাদ্যের কারণে হয়, তেমনি বহু ক্যানসার আবার খাবারের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিচে কিছু খাবারের কথা বর্ণনা করা হলো, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। খাবারগুলো বর্জন করা সম্ভব হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুলাংশে কমে আসবে বলে আশা করা যায়।
অর্গানিক নয় এমন খাবার খাওয়া থেকে সতর্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। ফলমূল-শাকসবজি শরীরের জন্য অত্যাবশকীয় খাবার। শুধু আঁশ নয়, ফলমূল ও শাকসবজিতে রয়েছে অসংখ্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান ও উপকরণ; যার অভাবে শরীর সুষ্ঠুভাবে কার্যসম্পাদন করতে পারে না। এসব উপাদানের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, পলিফেনল ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট।

আজকাল শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদনে রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসব রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের কারণে খাবার শুধু খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে না, ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের মূল উপাদান হলো নাইট্রোজেন, অ্যাট্রাজিন, থায়োডিকার্ব এবং অর্গানোফসফেট। এসব উপাদান বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শাকসবজি ফলমূলের গায়ে লেগে থাকে বা ভেতরে ঢুকে পড়ে খাবারকে খাওয়ার অনুপযোগী করে তোলে।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও আলুর চিপস খাওয়ার আগে একটু চিন্তা করুন। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও আলুর চিপস তৈরিতে ক্ষতিকর ও অস্বাস্থ্যকর ট্রান্সফ্যাট ব্যবহার করা হয়। ট্রান্সফ্যাটের সমস্যার কথা আমরা বহু আগ থেকে জানলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, এসব স্ন্যাক-জাতীয় খাবারে ক্যানসার সৃষ্টিকারী অ্যাক্রাইলেমাইড নামের এক রাসায়নিক যৌগ উপস্থিত থাকে।

মাইক্রোওভেনে তৈরি পপকর্ন বা ভুট্টার খই খাওয়ার ব্যাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে আজকাল আমাদের অনেক কাজ খুব সহজ হয়ে গেছে। মাইক্রোওভেন ব্যবহার করে আজকাল ঘরে ঘরে ভুট্টার খই তৈরি করা হয়। এক ধরনের বিশেষ থলেতে ভুট্টা রেখে মাইক্রোওভেনে দিলে মিনিটের মধ্যে ম্যাজিক শুরু হয়ে যায়।

লাল মাংস ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে। গরু, মেষ, শূকর ও অন্যান্য পশুর লাল মাংস সুষম খাবারের উৎস, যা শাকসবজি ও ফলমূলে পাওয়া যায় না। অতিমাত্রায় লাল মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়-এ কথাটি পুরোনো হলেও লাল মাংস ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়-এ কথাটি অতি সম্প্রতি জানা গেছে।

বিশ্বব্যাপী স্থূলতা এক বড় ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। স্থূল মানুষ ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকে বেশি আক্রান্ত হয়। স্থূলতার ভয়ে আজকাল অসংখ্য মানুষ চিনির পরিবর্তে ডায়েট, জিরো ক্যালরি এবং লো-ক্যালরির কৃত্রিম চিনিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ক্যালরিবিহীন কৃত্রিম চিনি ওজন কমাতে বা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করলেও ক্যানসার তৈরিতেও ভূমিকা রাখে-এ কথাটি খুব কম মানুষই জানে। কৃত্রিম চিনি হিসাবে পরিচিতি অ্যাসপার্টেম চিনির চেয়ে দুইশ গুণ বেশি মিষ্টি।

পরিশোধিত খাদ্যশস্য দিয়ে প্রতিনিয়তই আমরা আমাদের ক্ষুধা মেটাচ্ছি। রুটি, পেস্ট্রি, সাদা চাল, ময়দা, পেস্তা হলো কর্বোহাইড্রেট বা শর্করার প্রধান উৎস। এসব খাবার আমাদের প্রতিদিনের শক্তি জোগায়। কারণ এসব পরিশোধিত খাদ্যশস্য অতি সহজে ও অল্প সময়ে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয় এবং শরীরের কোটি কোটি কোষে পৌঁছার জন্য রক্তে ছড়িয়ে পড়ে।

সোডা অতি পরিচিত ও বহুলব্যবহৃত পানীয়। গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরমে এক বোতল ঠান্ডা মৃদু হিস্হিস্ শব্দ করা মিষ্টিজাতীয় সোডা যে কাউকে অপরিসীম তৃপ্তি দিতে পারে। সোডা শুধু তৃষ্ণা নিবারণ করে না, সোডা পান ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়। অন্যান্য মিষ্টি কোমল পানীয়র মতো সোডার মধ্যেও রয়েছে অ্যাসপার্টেম জাতীয় অনেক কৃত্রিম চিনি।

লবণে জারিত বা ধূমশোধিত শূকরের মাংস, হটডগ, সালামি, মিটলোফ এবং সসেজ হলো বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবনের খাবার। প্রক্রিয়াজাত মাংস নিঃসন্দেহে খেতে বেশ সুস্বাদু। সঙ্গে সঙ্গে এসব সুপরিচিত খাবার ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায় বেশ দ্রুতগতিতে। প্রক্রিয়াজাত মাংসে সোডিয়াম নাইট্রেটের মতো ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ থাকে। সোডিয়াম নাইট্রেটসহ অন্যান্য রাসায়নিক যৌগ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে।

বিয়ার বা ওয়াইনকে পশ্চিমা বিশ্বে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে গণ্য করা হয়। কম বা মধ্যম মাত্রার অ্যালকোহল পান নাকি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়; কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল পান ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় বলে এক পরীক্ষায় বলা হয়েছে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসারে মোট মৃত্যুর তিন শতাংশ হয় অ্যালকোহল পানের কারণে। অ্যালকোহল শরীরের সুস্থ কোষকে ধ্বংস করে এবং পরবর্তী সময়ে ক্যানসার কোষই শূন্যস্থান পূরণ করে নেয়।

টিনজাত টমেটো ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। টমেটো সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে অন্যতম। টমেটোয় লাইকোপেন, লিউটিন, বিটা-কেরটিন ও কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। এছাড়াও টমেটোয় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি ও কোলিক অ্যাসিড। কিন্তু টিনজাত টমেটো ভালো নয়।

আগেই বলেছি, অনেক খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। আবার অনেক খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ভেবেচিন্তে খাবার খেতে হবে, যাতে করে আমরা নিরাপদ ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারি। 

ওএস/ইসি
 

আরও পড়ুন

আরও