ফেনীতে রোপা আমন আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১ | ৩ কার্তিক ১৪২৮

ফেনীতে রোপা আমন আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

ফেনী প্রতিনিধি ১:৪৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০২১

ফেনীতে রোপা আমন আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা
ফেনীতে রোপা আমন আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে জেলায় ৬৬ হাজার ৫৩৫ হেক্টর আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১৬ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে আমন লাগানো শেষ হয়েছে। অতিবৃষ্টি না হলে আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমন লাগানোর কাজ শেষ হবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয় কৃষকদের।

এবার ফেনীতে ছয়টি নতুন জাতের ধান আবাদ শুরু হয়েছে। এর আগে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে জেলায় নির্বাচিত দুই হাজার ১০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়। এছাড়াও জেলায় বৈরী আবহাওয়া মোকাবেলায় পাঁচ ভাগ অতিরিক্ত বীজতলা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ফেনীতে আমন রোপণ শুরু হয়। গত সপ্তাহে অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে আমন পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কিছুটা শঙ্কায় পড়লেও দুই একদিনের মধ্যে পানি নেমে যায়। এখন কৃষকরা কেউ বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলছেন। কেউ আমনের জমি তৈরি করছেন চারা রোপণের জন্য।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফেনীতে হাইব্রিড জাতের ৭১ হেক্টর, উফশী জাতের ৬০ হাজার ৪৪ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ছয় হাজার ৪২০ হেক্টর আবাদের কথা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ইতোমধ্যে জেলায় উফশী জাতের ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ছয় হাজার ও হাইব্রিড জাতের পাঁচ হেক্টরে আমনের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিঠুন ভৌমিক জানিয়েছেন, ফেনী সদর উপজেলায় ১৫ হাজার ৯৪০ লক্ষ্যমাত্রার স্থলে তিন হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ধানের চারা লাগানো হয়েছে। একইভাবে দাগনভূঞা উপজেলায় ৯ হাজার ২৫০ লক্ষ্যমাত্রার স্থলে এক হাজার হেক্টর, ফুলগাজীতে ছয় হাজার ২০৫ লক্ষ্যমাত্রার স্থলে এক হাজার ৫ হেক্টর, পরশুরামে পাঁচ হাজার ৮৫১ লক্ষ্যমাত্রার স্থলে দুই হাজার ৫ হেক্টর, ছাগলনাইয়া আট হাজার ৩১৭ লক্ষ্যমাত্রার স্থলে ৬৫০ হেক্টর ও সোনাগাজীতে ২০ হাজার ৯৭২ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার স্থলে আট হাজার ৫ হেক্টর জমিতে আমন চারা রোপণ কাজ শেষ হয়েছে।

ফেনী সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রণব চন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে অতিবৃষ্টি শুরু হলে কৃষকদের মাথায় চিন্তার ভাঁজ পড়ে। এ সময়ে আমনের জন্য তৈরি জমি ও বীজতলায় পানি জমে যায়। কিন্তু ২-৪ দিনের মাথায় পানি নেমে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে আগামী মাসের শুরুর দিকেই আমন চারা রোপণ শেষ হবে।

ফেনী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বিথী জানিয়েছেন, এবার ফেনীতে নতুন জাতের ব্রি-৭১, ৮৭, ৭৯, ৮০, ৯০ ও ৯৫ জাতের ধানের চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। এ জাতের ধান ফেনীতে এবারই প্রথম রোপণ করা হচ্ছে। এছাড়াও ব্রি-৪৯, ৫১, ৫২ ও বিআর ২২, ২৩ জাতের ধানও কৃষকরা জমিতে লাগাচ্ছেন। এবার রোপা আমন মৌসুমে শ্রমিক ও পানির তেমন সংকট নেই। যার কারণে কিছুটা দুশ্চিন্তামুক্ত রয়েছেন ফেনীর কৃষকরা। বৈরী আবহাওয়া মোকাবেলায় জেলায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত ৫ ভাগ বীজতলা প্রস্তুত রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ফেনীর উপ-পরিচালক ড. মো. সফি উদ্দিন জানিয়েছেন, ফেনীতে আমন আবাদে কৃষকদের উৎসাহী করতে দুই হাজার ১০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিকে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। প্রণোদনার জন্য নির্বাচিত কৃষকরা বিনামূল্যে ১০ কেজি ডিএপি সার, পাঁচ কেজি এমপিও সার ও পাঁচ কেজি হারে আমন বীজ পেয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এসকে
 

আরও পড়ুন

আরও