বঙ্গবন্ধুর পথেই আ’লীগ
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৫ আশ্বিন ১৪২৮

বঙ্গবন্ধুর পথেই আ’লীগ

মাহমুদুল হাসান ৬:৫১ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২১

বঙ্গবন্ধুর পথেই আ’লীগ
দেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের নেতৃত্ব দেওয়া রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। নানা প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ৭৩-এ পা রাখল দলটি। দলটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে এগিয়ে যাচ্ছে।
জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ এবং বাঙালি জাতিকে বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল, অসাম্প্রদায়িক জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি রেকর্ড গড়েন। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী থাকা ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা থাকার রেকর্ডও তার।

১৯৮১ সাল থেকে টানা ৪০ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথপরিক্রমায় রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন, স্থিতিশীল অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নয়নে গতিশীলতা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়নের ফলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখানো পথেই হাঁটছে আওয়ামী লীগ। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। যার সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছেন।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ র্নিমাণ কাজ চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া গৃহহীনদের দুই শতক জমিসহ সেমি পাকা ঘর তৈরি করছে দিচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। এরমধ্যে প্রথম দফায় ৬৯ হাজার ৯০৪টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ৫৩ হাজার ৩৪০টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। চলতি বছরে আরও এক লাখ ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে ১০ লাখ পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে।

করোনা মোকাবিলায় শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্ব বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ২৩টি প্যাকেজের আওতায় এক লাখ ২৮ হাজার ৪৪১ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনাকালে সারা দেশে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২ কোটির অধিক মানুষকে খাদ্য সহায়তা এবং ১৫ কোটির অধিক নগদ অর্থ সহায়তাসহ করোনা প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে সুদৃঢ় ঐক্য ফিরিয়ে আনতে হবে। চিহ্নিত অপরাধী, চাঁদাবাজ, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের কোনো অবস্থাতেই দলে আনা যাবে না। ত্যাগীদের মূল্যায়ন করতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী দল, স্বাধীনতা-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছে, বহু গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তাদের অনেক ভূমিকা ও সাফল্য রয়েছে। তবে দুঃখের বিষয়, দেশের সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারছে না। 

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষতার বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যায় সেই অবস্থানে নেই আওয়ামী লীগ। তারা বিচ্যুত হয়ে গেছে। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করা, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ মৌলিক অধিকারগুলো রক্ষা করতে পারেনি। সমাজে বৈষম্য তৈরি করেছে। 

গৃহহীনদের পুনর্বাসন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম বলেন, এটা মানুষের অধিকার। এখানেও তারা পুরোপুরি ব্যর্থ। কারণ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে ঘরগুলো ভেঙে পড়ছে। তবে উদ্যোগটা ভালো ছিল। আসলে নিম্নআয়ের মানুষের কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়েছে আওয়ামী লীগ। তাদের উচিত ছিল দেশের মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ দেওয়া।

করোনার মধ্যে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে উদযাপন করা হবে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সবই ভার্চুয়ালি হবে। 

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দলের তৃণমূল পর্যায়েও মহামারীর কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পর্যায়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে বলা হয়েছে। করোনার কারণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আগের মতো হবে না। কিন্তু আমরা চেষ্টা করব- একেবারে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা, মহানগর, নগরে আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করব। আলোকসজ্জা থেকে আরম্ভ করে যতটুকু সম্ভব। সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে আমরা তা উদযাপন করব।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে জন্ম নেয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এই রাজনৈতিক দল। গেল বছরগুলোতে ২২ জুন রাত ১২টা ১ মিনিটে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন শুরু হতো। এরপর সকালে সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হতো। পাশাপাশি ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে দলীয় সভাপতিসহ অন্যরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতেন। এ ছাড়া আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করা হতো। কিন্তু এবার মহামারীর জন্য দলের সব কর্মসূচিই সীমিত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দফতর থেকে জানানো হয়, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং ভ্রান্ত দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা। অতঃপর বাঙালি জাতির ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, নির্যাতন, চরম অবেহলা ও দুঃশাসনে নিষ্পেষিত বাংলার জনগণের মুক্তি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ। জন্মলগ্নে এ সংগঠনের নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন ঢাকার কে এম দাস লেনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রোজ গার্ডেন’ প্রাঙ্গণে জননেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুসারি মুসলিম লীগের প্রগতিশীল কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নামে পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সংগঠনটির প্রথম কমিটিতে মওলানা ভাসানী সভাপতি ও শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলে থাকা অবস্থায় যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ-অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, শোষণমুক্ত সাম্যের সমাজ নির্মাণের আদর্শ এবং একটি উন্নত সমৃদ্ধ আধুনিক, প্রগতিশীল সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দর্শনের ভিত্তি রচনা করে আওয়ামী লীগ। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে অসাম্প্রদায়িক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। ১৯৪৮ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সূচিত ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে গণজাগরণে পরিণত হয়। অব্যাহত রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার তরুণ সংগ্রামী জননেতা শেখ মুজিবুর রহমান সেই সময়ে কারান্তরালে থেকেও ভাষা আন্দোলনে প্রেরণাদাতার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ভাষা আন্দোলনের বিজয়ের পটভূমিতে ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় হয়। তারপরও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়। নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রদেশে প্রদেশে কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। পূর্ব বাংলায় আওয়ামী লীগ সরকার নিশ্চিত করে এক মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ। আওয়ামী লীগের উদ্যোগেই মাতৃভাষা বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষার আনুষ্ঠানিক মর্যাদা লাভ করে। ২১ শে ফেব্রুয়ারি ঘোষিত হয় জাতীয় ছুটির দিন- ‘শহীদ দিবস’।...

আইয়ুব খানের এক দশকের স্বৈরশাসন-বিরোধী আন্দোলন, ’৬২ ও ’৬৪-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৪-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ, ’৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬-দফা আন্দোলন, ’৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৬-দফাভিত্তিক ’৭০-এর নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” খ্যাত কালজয়ী ভাষণ ও পরবর্তীতে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন, ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি স্বাধীন জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাসের এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাসহ জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র করা হয়। নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়ায়।

এসবি
 

আরও পড়ুন

আরও