মসজিদে নামাজ আদায়ে নতুন নির্দেশনা জারি
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১ | ১০ বৈশাখ ১৪২৮

মসজিদে নামাজ আদায়ে নতুন নির্দেশনা জারি

আদালত প্রতিবেদক ৬:১৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৭, ২০২১

মসজিদে নামাজ আদায়ে নতুন নির্দেশনা জারি
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের সব মসজিদে জুমা ও ৫ ওয়াক্তের নামাজের আগে-পরে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। এছাড়া আরো কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (৭ এপ্রিল) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ জারি করা হয়।

এতে মসজিদে নামাজ আদায়ে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এসব নিয়ম মেনে না চললে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

যেসব নিয়ম মানতে হবেঃ
১. জুমা ও অন্যান্য ওয়াক্তের নামাজ এবং প্রার্থনার আগে ও পরে মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনোপ্রকার সভা ও সমাবেশ করা যাবে না।

২. মসজিদে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক তারাবিসহ অন্যান্য নামাজ আদায় করতে হবে এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রার্থনা করতে হবে।

৩. এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২৯.০৩.২০২১ তারিখের প্রজ্ঞাপন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ০৪-০৪-২০২১ তারিখের নির্দেশনা মোতাবেক ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ০৫.০৪.২০২১ তারিখের জারীকৃত সকল নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সকলকে মেনে চলতে হবে।

এর আগে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সোমবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আরো কিছু নির্দেশনা জারি করে। তাতে বলা হয়, করোনা মহামারির কারণে মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে, সুন্নাত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

জামাতে আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে। মসজিদে রাখা জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

শিশু, বৃদ্ধ, যেকোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশগ্রহণ করবেন না। সর্বসাধারণের সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো যাবে না। নামাজ শেষে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামগণকে অনুরোধ করা হয়।

খতিব, ইমাম, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কথাও বলা হয় এই নির্দেশনায়। এ ছাড়া পশু কোরবানির ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটি এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবেন।

এএইচএ/এসবি

 

আরও পড়ুন

আরও