সিরাজগঞ্জে নৌকা বেচা-কেনার ধুম
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১ | ২ কার্তিক ১৪২৮

সিরাজগঞ্জে নৌকা বেচা-কেনার ধুম

আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ ১:০০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২১

সিরাজগঞ্জে নৌকা বেচা-কেনার ধুম
যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চল। ডুবে যাচ্ছে আবাদি জমি। ফলে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় নৌকা বেচা-কেনা জমে উঠেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর হয়ে ওঠে এই নৌকার হাট। এমনই দৃশ্য ছিলো শাহজাদপুরের কৈজুরী নৌকার হাটে।

সেই সাথে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কাঠ মিস্ত্রীরা। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত শাহজাদপুরের কৈজুরী হাটে রেকর্ড সংখ্যক নৌকা বেচা-কেনা হয়ে থাকে। বর্ষাকালে এই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যাওয়ায় ভেঙ্গে পরে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার যমুনা নদী তীরবর্তী শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী মাদ্রাসা মাঠে বসে নৌকার হাট। এখানে ছোট, বড় ও মাঝারি নৌকা সাজিয়ে বসে থাকেন বিক্রেতারা। নৌকা ও লগিবৈঠা ক্রয় করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন ক্রেতারা। ৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা মূল্যের নৌকা বেচা-কেনা হয়ে থাকে এই হাটে।

চর-কৈজুরী হাটে আসা নৌকা ক্রেতা সালাম জানিয়েছেন, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ির চারপাশে পানি  বৃদ্ধি  পেয়েছে। এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যেতে নৌকাই একমাত্র বাহন। আরও আগে নৌকা কেনা লাগতো, সময়ের অভাবে দেরি হয়েছে।

একই গ্রামের ব্যবসায়ী মনি ব্যাপারী জানিয়েছেন, শুধু বর্ষা মৌসুমে নৌকা বিক্রি ভালো হয়। বছরের অন্য সময় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। নৌকার ব্যবসা এখন অনেকটাই মৌসুমী ব্যবসা হয়ে পড়েছে।

নৌকা বিক্রেতা কোরবান আলী জানিয়েছেন, নৌকা বিক্রি তাদের পৈত্রিক ব্যবসা। বাড়িতেই তাদের কারখানা রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ থেকেই কিশোর বয়সে বাবার সঙ্গে নৌকা বিক্রি করতে তিনি কৈজুরী হাটে আসতেন। তখন ১০ হাত লম্বা একটি ডিঙি নৌকা ৬শ থেকে ৭শ টাকায় বিক্রি হতো। এখন সেই নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায়।