দেশে ৭৮ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১০ আশ্বিন ১৪২৮

দেশে ৭৮ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট

আরিফুল ইসলাম ১২:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৫, ২০২১

দেশে ৭৮ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট
করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যু লাগামহীনভাবে বাড়ছে। সংক্রমণ উঠে গেছে প্রায় ২৯ শতাংশে। আর এক দিনে মৃত্যুর সংখ্যা উঠে গেছে ১৫৩ জনে।
 এমন পরিস্থিতিতে আইইডিসিআর জানিয়েছে, দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সুস্পষ্ট প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। 

এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ রোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণই একমাত্র উপায়। দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট প্রথম শনাক্ত হয় এপ্রিলে। ওই মাসে দেশে সংক্রমণ অনেক বেশি ছিল। মে সংক্রমণ কিছুটা কম থাকলেও জুন মাসে বাড়তে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এখন করোনার তৃতীয় ঢেউ চলছে। আর সেই ঢেউ বাড়ছে একেবারেই খাড়াভাবে। যা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলে জেলা-উপজেলায় অনেক আগে থেকে লকডাউন দিলেও তার সুফল এখনো দেখা যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে ২১ হাজার ৬২৯ জন; মারা যায় ৫৬৮ জন। ফেব্রুয়ারি মাসে মাসে দেশে ১১ হাজার ৭৭ জন; মারা যায় ২৮১ জন। মার্চে মাসে দেশে ৬৫ হাজার ৭৯ জন; মারা যায় ৬৩৮ জন। এপ্রিলে মাসে দেশে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৭ জন; মারা যায় ২ হাজার ৪০৪ জন। মে মাসে দেশে ৪১ হাজার ৪০৮ জন; মারা ১ হাজার ১৬৯ জন। জুন মাসে দেশে ১ লাখ ১২ হাজার ৭১৮ জন; মারা যায় ১ হাজার ৮৮৪ জন। ২০২০ সালে মার্চে যখন করোনা শনাক্ত হয়, ওই মাসে পাঁচজন মারা যায়। আর সেই পাঁচজন থেকে এখন মৃত্যু পৌঁছেছে ১৫ হাজার ৬৫ জনে।

জুনের ১ তারিখ থেকে দেশে কঠোর লকডাউন চলছে। জুনের শেষের দিকে এসে মৃত্যুহার প্রতিদিনই একশর উপরে থাকছে। কঠোর লকডাউন চললেও অনেকের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা দেখা যাচ্ছে। এমন সময় গতকাল রোববার দেশে করোনার ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে জিনোম সিকোয়েন্সের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। 

আইইডিসিআর জানায়, সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসটি পরিবর্তিত হয়ে নতুন চেহারা ও বৈশিষ্ট্যধারণ করছে, যা ভ্যারিয়্যান্ট নামে পরিচিত। সংক্রমণের গতি, রোগের জটিলতা (মৃত্যুহার ও হাসপাতালে ভর্তির হার), রোগ পরবর্তী ও টিকা গ্রহণ পরবর্তী রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা বিবেচনায় কিছু কিছু ভ্যারিয়েন্টকে ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেমন: আলফা, বিটা, গামা ও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।

বাংলাদেশে সংক্রমিত মানুষের মধ্যে ভাইরাসটির ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের জন্য দেশে এ রোগটি শনাক্ত হওয়ার শুরু থেকে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর), আইসিডিডিআর,বি ও আইদেশী যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৬৪৬টি সংগৃহীত কোভিড-১৯ নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে। এসব নমুনায় কোভিড-১৯ এর আলফা ভ্যারিয়েন্ট (ইউকে-তে প্রথম শনাক্ত), বিটা ভ্যারিয়েন্ট (সাউথ আফ্রিকাতে প্রথম শনাক্ত), ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট (ইন্ডিয়াতে প্রথম শনাক্ত), ইটা ভ্যারিয়েন্ট (নাইজেরিয়াতে প্রথম শনাক্ত), বি ১.১.৬১৮ ভ্যারিয়েন্ট (আনআইডেন্টিফাইড) শনাক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে ২০২০ ডিসেম্বর থেকে ২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিকোয়েন্সকৃত সকল নমুনায় আলফা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। মার্চ মাসের সিকোয়েন্সকৃত নমুনার ৮২ শতাংশ নমুনায় বিটা ভ্যারিয়েন্ট ও ১৭ শতাংশ নমুনায় আলফা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এপ্রিল মাসেও বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমিতদের মধ্যে বিটা ভ্যারিয়েন্টের প্রাধান্য ছিল। এপ্রিলে বাংলাদেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ ভ্যারিয়েন্টের শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ ভ্যারিয়েন্ট মে মাসে ৪৫ শতাংশ ও জুন মাসে ৭৮ শতাংশ নমুনায় শনাক্ত হয়। বাংলাদেশে বর্তমান কোভিড-১৯ সংক্রমণে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সুস্পষ্ট প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে।

আইইডিসিআর বলছে, যে ধরনের ভ্যারিয়েন্টই হোক না কেন তা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণই একমাত্র উপায়। এর সঙ্গে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাকসিন নেওয়া প্রয়োজন।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর হোসেন বলেন, এমন একটা মহামারীতে আমি-আপনি যে কেউই আক্রান্ত হতে পারি। নিজের দোষে বা বিনা দোষে আক্রান্ত হতে পারি। সেজন্য ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে সচেতন হতে হবে। সরকার চেষ্টা করছে। সঙ্গে আপনার নিজেকেও নিজের সুরক্ষার কথা ভাবতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। সুযোগ পেলেই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। যতটা পারেন শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। যে ভ্যারিয়েন্টই আসুক না কেন এই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।

এইচআর
 

আরও পড়ুন

আরও