হাসপাতালগুলোতে ভয়ঙ্কর চিত্র
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৪ আশ্বিন ১৪২৮

হাসপাতালগুলোতে ভয়ঙ্কর চিত্র

প্রীতম সাহা সুদীপ ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২১

হাসপাতালগুলোতে ভয়ঙ্কর চিত্র
করোনা পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সংক্রমণ কমাতে দেশের সীমান্তবর্তী উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর পর ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে লকডাউন দেওয়া হয়েছে।

চলাচলে বিধিনিষেধ কঠোর করে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার মধ্যেই রাজধানীর হাসপাতালগুলোতেও বাড়তে শুরু করেছে করোনা রোগীর চাপ। এরই মধ্যে ঢাকার করোনা ডেডিকেটেড ১৫টি সরকারি হাসপাতালের তিনটিতেই কোনো আইসিইউ খালি নেই বলে জানা গেছে।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার হাসপাতালগুলোতে গত কয়েক দিনে করোনা আক্রান্ত রোগীর চাপ অনেক বেড়ে গেছে। শয্যা কিংবা আইসিইউতে সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের জায়গা হচ্ছে মেঝেতে। এত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের। জায়গা না থাকায় প্রতিদিন অনেক রোগী ফেরত পাঠাতে হচ্ছে।

তিন হাসপাতালে একটি আইসিইউও ফাঁকা নেই

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, করোনা রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ২৭৫টি সাধারণ শয্যার মধ্যে একটিও খালি নেই। বরং শয্যার বাইরে আরও তিনজন রোগী ভর্তি রয়েছে। খালি নেই এই হাসপাতালের ১০টি আইসিইউ’র একটিও। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭০৫টি সাধারণ শয্যার মধ্যে খালি রয়েছে ৩৪৬টি। তবে ২০টি আইসিইউ শয্যার একটিও খালি নেই।

এদিকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৫০টি সাধারণ শয্যার মধ্যে ২৬৩টি ফাঁকা রয়েছে। তবে ২৪টি আইসিইউ শয্যার একটি মাত্র খালি রয়েছে। আর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬৩টি সাধারণ শয্যার মধ্যে ১৭৩টি ফাঁকা রয়েছে। তবে ১০টি আইসিইউ শয্যার একটিও খালি নেই।

এর বাইরে করোনা ডেডিকেটেড কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে ১৬৯ সাধারণ শয্যার মধ্যে রোগী ভর্তি আছে ৬৬টিতে। ২৬টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে রোগী ভর্তি রয়েছে ১০টিতে। খালি রয়েছে ১৬টি। শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে ১৭৪টি সাধারণ শয্যার মধ্যে ১৫৭টি ফাঁকা রয়েছে। তবে ১৬টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে ১০টি খালি রয়েছে। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ৯০টি সাধারণ শয্যার মধ্যে ৬৮টি ফাঁকা আছে, ছয়টি আইসিইউ শয্যার চারটি ফাঁকা রয়েছে।

মুগদা হাসপাতালে দৈনিক ১০০ করোনা রোগী

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল বুধবার সরেজমিন পরিদর্শন করে জানা গেছে, জুন মাসের শুরুতে এখানে প্রতিদিন গড়ে ৭০ জনের মতো করোনা রোগী চিকিৎসা নিতেন, এখন এই সংখ্যা বেড়ে ১০০ ছাড়িয়েছে।

হাসপাতালটির পরিচালক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, আগের তুলনায় এখন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আমাদের এখানে এখন প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ জন করে করোনা রোগী ভর্তি হচ্ছেন। চলতি মাসের শুরুতে এইসংখ্যা ছিল ৫-৬ জন।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে সাধারণ ৩০০ বেডের মধ্যে আজ বেডে রোগী আছে ১২৯ জন। গতকাল ছিল ১২১ জন, তার আগের দিন ছিল ১১৫ জন। এছাড়া ২৪টি আইসিইউ বেডের মধ্যে মাত্র একটি খালি রয়েছে।

একই অবস্থা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল

প্রায় একই অবস্থা রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেরও। গত এক সপ্তাহ ধরে এই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দৈনিক একশোর উপরে থাকছে। বুধবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানে ২৬৩টি সাধারণ শয্যার মধ্যে ১৭৩টি ফাঁকা রয়েছে। তবে ১০টি আইসিইউ শয্যার একটিও খালি নেই।

হাসপাতাল পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান বলেন, ‘সপ্তাহখানেক আগেও আমাদের করোনা ইউনিটে ভর্তি রোগী থাকতো ৬০ থেকে ৭০ জন। গত এক সপ্তাহ যাবৎ ভর্তি রোগী একশোর উপরে থাকছে। আইসিইউ’র কোনো বেড ফাঁকা নেই।

কুর্মিটোলায় ২৭৫ বেডে ৩০০ রোগী!

এদিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ২৭৫টি শয্যা থাকলেও, এখানে বর্তমানে প্রায় ৩০০ রোগী রয়েছেন। ফাঁকা নেই একটি আইসিইউ শয্যাও।

গতকাল বুধবার দুপুরে কুর্মিটোলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার রাশিদ হাসান জানান, আমাদের এখানে ২৭৫টি শয্যার একটিও ফাঁকা নেই। উল্টো সকাল পর্যন্ত ৩০৩ জন রোগী ছিল, তিনজন রিলিজ নিয়ে চলে যাওয়ায় এখন ৩০০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যার সংকুলান না হওয়ায় মেঝেতে রোগী রাখতে হচ্ছে। ১০টি আইসিইউ শয্যার একটিও ফাঁকা নেই।

কুয়েত-মৈত্রীতে ২৬ আইসিইউ’র মধ্যে সচল ১০টি

উত্তরায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের ২৬টি আইসিইউ বেডের মধ্যে চালু আছে মাত্র ১০টি। সবকটিই বর্তমানে রোগীতে পরিপূর্ণ, একটিও খালি নেই।

হাসপাতালের জরুরি শাখা থেকে জানা গেছে, বুধবার পর্যন্ত হাসপাতালের ১৬৯ সাধারণ শয্যার মধ্যে ৬৬ করোনা রোগী ভর্তি আছেন। আরও ১০ জন ভর্তি আছেন আইসিইউ বেডে। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে রোগীর সংখ্যা ৭৬।

হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটের দায়িত্বে থাকা অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ও ক্রিটিক্যাল কেয়ারের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মাঝখানে হাসপাতালে রোগীর চাপ কম থাকায় আইসিইউ বেডের অবকাঠামোগত কাজ শুরু করা হয়। যে কারণে ২৬টি আইসিইউ বেডের মধ্যে বর্তমানে ১০টি চালু রয়েছে। কিন্তু চলতি সপ্তাহে হঠাৎ করেই আইসিইউ বেডের চাপ বেড়ে যায়। বর্তমানে সবকটি আইসিইউ বেডেই রোগী ভর্তি আছেন।

এইচআর
 

আরও পড়ুন

আরও