শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকার কঠোর
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৫ আশ্বিন ১৪২৮

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকার কঠোর

সাজেদ রোমেল ২:০৫ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২১

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকার কঠোর
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে কঠোরই রয়েছে সরকার। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না। পুরো জুলাই মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ইঙ্গিত পাওয়া যায় গতকাল রোববার সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তার বক্তব্যে।
তবে শিক্ষার্থীদের সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আগ্রহ যে প্রচণ্ড তার কিছুটা ধারণা পাওয়া গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের চিত্রে। গতকাল রোববার সেই বিভাগের সেমিস্টার পরীক্ষায় উপস্থিতি ছিল শতভাগ।
 
এবারও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী হচ্ছে না

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা হচ্ছে না। এ পরীক্ষা বাতিলের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এম মনছুরুল আলম এ তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

তবে গেল বছরের মতো এবার অটোপ্রমোশন হচ্ছে না। বাড়ির কাজের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে প্রমোশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা না নিয়ে ‘বাড়ির কাজের’ মাধ্যমে মূল্যায়নের বিষয়টি আগেভাগেই জানিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। সে জন্য কোন পদ্ধতিতে তাদের পরবর্তী ক্লাসে প্রমোশন দেওয়া হবে তার সারসংক্ষেপ তৈরির কাজ শুরু করেছে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পদ্ধতি নির্ধারণ করে খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে, সেখানে সায় মিললে জুলাই মাসের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এ এম মনছুরুল আলম জানান, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থীদের বাড়ির কাজের মাধ্যমে মূল্যায়ন চলবে। তাদের অটোপাস দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আনা সম্ভব হলেও তাদের বার্ষিক পাঠপরিকল্পনার আলোকে পড়ানো হবে। এ প্রক্রিয়ায় মূল্যায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

জুলাইয়েও খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সরকারি বিধিনিষেধ ও ঈদুল আজহার সঙ্গে মিলে রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আরও এক মাস বাড়তে পারে। সে হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী জুলাইয়েও খুলছে না।

গতকাল রোববার সকালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ?‘মাঝে করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটিই বাড়ছে। করোনা সংক্রমণ না কমা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সিদ্ধান্ত আসবে না।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘চলতি সপ্তাহ করোনা মোকাবিলায় সরকারের গঠিত পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ সপ্তাহে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় সরকারি বিধিনিষেধ আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ ২২ বা ২৩ জুলাই ঈদুল আজহা। ৩০ জুনের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি পুরো জুলাই মাস দেওয়া হতে পারে। সে হিসেবে জুলাই মাসেও খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।’

করোনাকালে ঢাবির পরীক্ষা, উপস্থিতি শতভাগ

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও অনলাইনে চলছে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম। তবে অনলাইনে একাডেমিক কার্যক্রম চললেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়ে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

কয়েকবার পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা নিতে পারেনি। অন্যদিকে, করোনার মধ্যেই পরীক্ষা দিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। শেষ পর্যন্ত করোনাকালে আবাসিক হল খোলা হবে না- এমন শর্তে শিক্ষার্থীদের সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ওই ঘোষণার পর যেসব শিক্ষার্থীর ঢাকায় আবাসিক সুবিধা নেই, তারা বিপাকে পড়ে। তবে শিক্ষার্থীদের এই সমস্যার সমাধান করে চতুর্থ বর্ষের সপ্তম সেমিস্টারের পরীক্ষা নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদভুক্ত ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।

গতকাল রোববার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সপ্তম সেমিস্টারের ৮১ শিক্ষার্থীর সবাই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, প্রতি বছর বিভিন্ন পরীক্ষা নিতে গিয়ে দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে। তবে করোনার মধ্যে চতুর্থ বর্ষের সপ্তম সেমিস্টারের পরীক্ষায় শতভাগ উপস্থিতি দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকের আবাসিক সুবিধা ছিল না। আমরা বিভাগের শিক্ষকদের সহায়তায় শিক্ষার্থীদের এই সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেছি।

স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এক টেবিল পরপর পরীক্ষার্থীদের বসানো হয়েছে এবং মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, খুবই সুন্দরভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। শিক্ষার্থীরা আন্তরিকতার সঙ্গে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

এইচআর

 

আরও পড়ুন

আরও