সচেতনতার মাধ্যমে সুরক্ষা নিশ্চিত হোক
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১১ আশ্বিন ১৪২৮

সচেতনতার মাধ্যমে সুরক্ষা নিশ্চিত হোক

পরিবর্তন ডেস্ক ১:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ০৩, ২০২১

সচেতনতার মাধ্যমে সুরক্ষা নিশ্চিত হোক
মধুমাসে ফলের বীজের সঠিক ব্যবহার
মধুমাস হিসেবে পরিচিত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসজুড়ে থাকে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুসহ হরেক রকম ফলের আয়োজন। পরিবারের ছোট-বড় সবাই মেতে ওঠে মৌসুমি সুস্বাদু ফল ভোজনের উৎসবে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, ফল খেয়ে ফলের বীজ যত্রতত্র ফেলতে আমরা অভ্যস্ত। যা অত্যন্ত খারাপ একটি অভ্যাস। অথচ ফলের বীজের সঠিক ব্যবহার বহুবিধ উপকার সাধন করতে সক্ষম।
 
বর্তমান সময়ে উচ্চতাপমাত্রার অন্যতম একটি কারণ বন উজাড় বা বৃক্ষনিধন। আর এই গ্রীষ্মকালের তাপদাহ হ্রাস করতে বৃক্ষের বিকল্প নেই, পাশাপাশি শীতকালেও বায়ুর গতি রোধ করে তাপমাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। সালোকসংশ্লেষণের জন্য বৃক্ষ বায়ু থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ এবং অক্সিজেন নির্গত করে আমাদের বিশুদ্ধ বায়ু সরবরাহ করে। বন্যা প্রতিরোধ, নদীভাঙন রোধ ও জলবায়ুর আকস্মিক পরিবর্তন ঠেকাতেও বৃক্ষপ্রধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের ত্বকে যে মারাত্নক ক্ষতি করে, তা থেকে রেহাই পেতে গাছপালা প্রধান হাতিয়ার। এছাড়াও বর্ষায় বজ্রপাত পেতে রক্ষা পেতে বৃক্ষের প্রয়োজনীতা অপরিসীম।

পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত বৃক্ষের পরিমাণ অধিকহারে বাড়াতে হলে ফলের একটি বীজ বর্তমান সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই সঠিক স্থান নির্বাচন করে যেমন- নদীর পাড়, রাস্তার দ্বারে কিংবা বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গাসহ অন্যান্য যেসব জায়গায় গাছ বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন স্থানে ফলের বীজ ফেলি। নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করি।

আবু মো. ফজলে রোহান, নবগ্রাম, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা, কুমিল্লা

সাঁতার শেখা জরুরি

আমাদের দেশে অনাকাক্সিক্ষত শিশুমৃত্যুর পিছনে যেসব কারণ রয়েছে তার মধ্যে একটি কারণ হলো পানিতে ডুবে যাওয়া। নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় আমাদের দেশের চারিপাশে অসংখ্য ছোট বড় নদ-নদী ছড়িয়ে রয়েছে। সারাবছর এইসব নদীগুলোতে কানায় কানায় জলে ভরা থাকে। বর্ষা মৌসুমে তো নদীগুলো ভরে গ্রাম-গঞ্জ তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যায়। বাড়ির আশপাশের জায়গাগুলো জলে থৈথৈ করে, আর তখনি ভয়-বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই তো পা বাড়ালেই কোনো জলাধার খুঁজতে খুব বেশি বেগ পেতে হয় না। উপরন্তু এমন কোনো বছর নেই যে বছর বন্যা আঘাত হানে না দেশে। আর বন্যার পানিও নিচু এলাকায় জমে থাকে কয়েক সপ্তাহ, কখনো বা মাসব্যাপী। পানির সহজলভ্যতার কারণেই সাঁতার না জানা শত শত শিশু প্রতি বছর পানিতে ডুবে মারা যায়। এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতার পাশাপাশি শিশুসহ সকল বয়সের মানুষের সাঁতার শেখা জরুরি।

প্রসেনজিৎ কুমার রোহিত, শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ

পল্লীবিদ্যুতে দুর্নীতি

বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলা জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজপলা মনপুরা। ভোলা জেলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব দিকে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনার মোহনায় চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই মনপুরা উপজেলা। এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপে এক লক্ষ মানুষ বসবাস করে। মনপুরায় যে সকল প্রাইভেট কোম্পানি, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে পুরো দেশের সাপ্লাই দিচ্ছে। তারা এক রকম আমাদের ওপর জুলুম করছে, যেমন প্রথমেই সংযোগ নিতে হলে যে মিটার কিনতে হয় তা, লোকাল মার্কেটে এর মূল্য সর্বোচ্চ ১৫শ’ থেকে ১৮শ’ টাকা; তারা নিচ্ছে ৫ হাজার টাকা! বর্তমানে এর মূল্য আরও বেশি। পার ইউনিট বিদ্যুৎ ৩০ টাকা এবং অযৌক্তিকভাবে মাসিক ভ্যাট নিচ্ছে ৭০ টাকা। যা আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশের শতভাগ বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন রূপে রূপান্তরিত হচ্ছে। কিন্তু এমন জনদুর্ভোগ শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের হাহাকার শুরু হয়েছে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও নিম্ন আয়ের মানুষ এত টাকা দামের বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারছে না। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও নিজের ঘরে ফ্যানের নিচে বসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে না। এখনো নিম্ন আয়ের অনেক ঘরে সোলারের মিটিমিটি আলো আর হারিকেন জ্বালিয়ে জীবনযাপন করছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ভোলার বিভিন্ন চরে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। তবুও আমরা কেন সোলার কোম্পানির ব্যবসার টার্গেটের শিকার হব! প্রশ্নটি জনগণের মুখে মুখে। এই অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি, মনপুরার হতদরিদ্র মানুষদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করুন।

সোয়াইব মোহাম্মদ সিফাত, শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, ঢাকা কলেজ

নিরাপদ মাতৃত্ব নারীর অধিকার

‘মা’ শব্দটি পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট একটি শব্দ হলেও সবচেয়ে বেশি মধুর ও বৈশিষ্ট্যম-িত শব্দ। মায়ের মতো এমন মধুর শব্দ অভিধানে আর দ্বিতীয়টি নেই। শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সব মায়া, মমতা, আদর, স্নেহ ও নিঃস্বার্থ ভালবাসা। আর একজন নারীর জীবন তখনই পরিপূর্ণ হয় যখন সে মাতৃত্ব অর্জন করে। এই মাতৃত্ব অর্জনে নিরাপত্তা লাভ প্রতিটি নারীর অধিকার। কিন্তু এই মাতৃত্ব অর্জন করতে গিয়ে একদিকে যেমন নারীদের সহ্য করতে হয় অসহ্য যন্ত্রণা, অন্যদিকে আবার থাকে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি। প্রায়শই সন্তান জন্মদান করতে গিয়ে মৃত্যু হয় নারীদের। এর কারণ হলো গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসবপরবর্তী সময়ে অনিরাপদ থাকা। এই মৃত্যু থেকে মায়েদের রক্ষা করতে এবং মাতৃত্ব অর্জনে পরিপূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর ২৮ মে ‘বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস’ পালন করা হয়। বাংলাদেশে ১৯৯৭ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটি অবস্টেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজ্যিকাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) পালন করে আসছে। এই দিনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে নিরাপদ মাতৃত্ব সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।

নিরাপদ মাতৃত্ব বলতে গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসবপরবর্তী সময়ে সকল নারীর জন্য নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণকে বোঝানো হয়। মূলত মাতৃস্বাস্থ্য নিরাপদ রাখা, মাতৃমৃত্যুহার হ্রাস করা ও নবজাতকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালন করা হয়ে থাকে। প্রতিবছর এই দিনে সারাদেশে নিরাপদ মাতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন ও নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। বাংলাদেশের মাতৃমৃত্যুহার আগের চেয়ে কমে এলেও কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো এখনো সম্ভব হয়নি। এর প্রধান কারণ হলো, প্রচলিত ধ্যান-ধারণার প্রতি মাত্রাতিরিক্ত বিশ্বাস, শিক্ষার অনগ্রসরতা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলের ব্যক্তি পর্যায়ে আধুনিক মানসিকতার উন্মেষ পুরোপুরি ঘটেনি। গর্ভধারণ ও প্রসবজনিত নানাবিধ জটিলতার কারণে প্রতিবছর পৃথিবীতে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার নারীর মৃত্যু হয় এবং ৩০ লাখ নবজাতকের অকালমৃত্যু হয়।

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার ৪৭৫ জন মা এবং প্রতিদিন প্রায় ১৫ জন মা মারা যান। এছাড়া বিশ্বের বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। ফলে নারীদের গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন মৃত্যুহারও পূর্বের তুলনায় বাড়তে শুরু করেছে। এমতাবস্থায় নিরাপদ মাতৃত্ব সম্পর্কে জনগণের মধ্যে পর্যাপ্ত সচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। মা ও শিশু উভয়কেই স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে এবং গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসবপরবর্তী সময়ে নারীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদান করতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকরণে সরকারকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কেননা নিরাপদ মাতৃত্ব অর্জনের অধিকার প্রতিটি নারীরই রয়েছে।

সিদরাতুল মুনতাহা, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

কিশোর গ্যাং মহামারি

পাড়া-মহল্লায় দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানো, স্কুল-কলেজের সামনে আড্ডা, মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া, তরুণীদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম করতে গড়ে তুলছে ‘কিশোর গ্যাং’। দিন দিন তারা হয়ে উঠছে ভয়াবহ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব গ্রুপ গড়ে উঠছে হরদম। এক গ্রুপের দেখাদেখি জন্ম নিচ্ছে আরেক গ্রুপ। গ্রুপের সদস্যের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে নতুন গ্রুপ। তাদের অপরাধের পরিধি নিত্য আরও কঠিন রূপ নিচ্ছে।

চুরি-ছিনতাই থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ডে পর্যন্ত জড়াচ্ছে এই ভয়াবহ কিশোর গ্যাং। অপরাধের অস্ত্র হিসেবে তারা ব্যবহার করছে ছুরি, চাকু বা চাপাতির মতো ধারালো বস্তু। আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র-জুনিয়র বা নারীঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটছে হত্যাকাণ্ড। সর্বশেষ গত ১৬ মে বিকেলে মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ৩১ নম্বর সড়কে সাহিনুদ্দিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় জড়িতরাও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও এগিয়ে আসতে হবে। 

গ্যাং সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ডাটা বেইজ প্রণয়ন করতে পারলে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ। যেসব স্থানে গ্যাং সদস্যরা আড্ডা দেয়, সেসব জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরব উপস্থিতি থাকতে হবে। গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষক ও নিয়ন্ত্রকদের আইনের আওতায় আনতে হবে। যে কোনো ধরনের অপরাধ বড় রূপ নেওয়ার আগে অপরাধীকে গ্রেফতার করতে হবে। সর্বোপরি, সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম চোখে পড়লে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।

শাহ্ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, শিক্ষার্থী, দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, ঢাকা


বাজেটে শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দিন

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা পারে যে কোনো জাতিকে স্বনির্ভর ও আত্মপ্রত্যয়ী করে গড়ে তুলতে। আর শিক্ষিত জাতি পারে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে। তাই যে কোনো জাতির সার্বিক উন্নয়নে সবার আগে শিক্ষাখাতকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পরপরই জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১০ সালে শিক্ষানীতি প্রণীত হওয়ার পর থেকেই মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অন্তত ছয় শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষাবিদরা।

পাশ্চাত্যসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলো শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪ শতাংশের বেশি ব্যয় করে। ভারত করে তাদের জিডিপির ৩.৫ শতাংশ, আমেরিকা করে ৫ শতাংশ, ইংল্যান্ড করে ৫.৬ শতাংশ, ব্রাজিল করে ৫.৬ শতাংশ, ইরান ৪.৭ শতাংশ, নেপাল ৩.৭ শতাংশ আর চীন করে ৪ শতাংশের উপরে।

দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা খাতের বরাদ্দের হার বাড়ানোর দাবি থাকলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না। ফলে গুণগত শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। ইউনেসকোর চাওয়া হলো, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ হবে জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ২০ শতাংশ এবং জিডিপির ৬ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো সেই লক্ষ্যমাত্রা থেকে দূরে অবস্থান করছে।

গত এক দশক ধরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু যথার্থ মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসছে না বেতনের অপ্রতুলতার কারণে। ফলে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার মান হয়ে পড়ছে নিম্নমুখী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সময়ের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতিও বেড়েছে। সেই তুলনায় শিক্ষা খাতে বরাদ্দ অপ্রতুল রয়ে গেছে। শিক্ষানীতি লক্ষ্য ও ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে শিক্ষাখাতে, বিশেষ করে শিক্ষার মান উন্নয়নের দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

বাংলাদেশে শিক্ষাখাত বৃহৎ হওয়ার কারণে ব্যয়ভারও অধিক হবে এটাই স্বাভাবিক। শুধু ব্যয়ভার বাড়ালেই চলবে না, সরকারের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম যেন সর্বত্রই সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা প্রণয়ন করতে হবে। শিক্ষক, পাঠক্রম, পঠন দক্ষতা বাড়াতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে।

ঘুচে যাক অজ্ঞতার অন্ধকার। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠুক বাংলার প্রতিটি মানুষ, এটাই প্রত্যাশা।

ফারজানা অনন্যা, শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রধানমন্ত্রী সমীপে

মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,

বিনীত নিবেদন এই, মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে আমার পিতা, মাতা, ভাই, বোনসহ মোট ১১ জনকে হারিয়েছি। পাক-হানাদার এবং অবাঙালিদের নির্মম নির্যাতনে ১৯৭১ সালে ১৩ এপ্রিল উপশহর ২ নম্বরে, নিজ বাসভবনে প্রাণ হারান। বর্তমানে আমরা দুই ভাই-বোন জীবিত আছি। (বড় বোন শ^শুরালয়ে সংসার করছে)। দুর্ভাগ্যবশত আমরা শহীদ পরিবারের তালিকায় যুক্ত হতে পারিনি। আমি ছোটখাটো একটা ব্যবসা করতাম। 
দুর্ভাগ্যবশত ব্যবসায় লোকসান করে আজ আমি রিক্ত, নিঃস্ব ও অসহায়। ঋণগ্রস্ত অবস্থায় নিদারুণ কষ্টে পরিবার নিয়ে দিনাতিপাত করছি। স্বাধীনতা-পূর্ব উত্তাল পরিস্থিতিতে আমার বড় ভাই ১১ দফার দাবিতে সোচ্চার ছিল বলে তাকে এগার টুকরো করে হত্যা করেছে ঘাতকরা। এতদিন সরকারের দ্বারস্থ হইনি। স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত কোনো সরকারও আমাদের খোঁজখবর নেয়নি।

মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী, আপনার নিকট অনুরোধ, সরেজমিনে তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়ার জন্য। আমি প্রকৃত শহীদ পরিবারের সদস্য হয়েও আজ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। আমার পরিবারের দিকে সুদৃষ্টি দেওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

আকরাম আলী (রিয়াল), ২ নম্বর উপশহর (পিবিআই অফিসের উত্তর-পশ্চিমে), দিনাজপুর, ০১৩১৬৪৩৪৮৬৮।

ইয়াস দুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দেশের ৯টি উপকূলীয় জেলার ২৭টি উপজেলার মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৯টি উপকূলীয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভোলা জেলা। ভোলার এমন কোনো গ্রাম বা মহল্লা নেই যেখানে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলা যার চারদিকে নদীবেষ্টিত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ জেলার মানুষ। 

অতি জলোচ্ছ্বাসের ফলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ডুবে গেছে মাছ এবং শাকসবজির খেত। সর্বহারা হয়ে পড়েছে মাছ এবং সবজি চাষিরা। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে বসতভিটা এবং গৃহপালিত পশু। অনেকেই আবার আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় খোলা আকাশের নিচে অনাহারে-অর্ধাহারে নির্ঘুমে দিন কাটাচ্ছে ভোলা জেলার হাজারো মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে সমাজের উচ্চ-পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এগিয়ে আসার জোর আবেদন জানাচ্ছি।

হাসান মাহমুদ শুভ, চরফ্যাশন, ভোলা
লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 

আরও পড়ুন

আরও