মিলনমেলায় উৎসবে মেতেছিলো ‘পরানে আগ্রাবাদ ইউএসএ’
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২ | ১২ মাঘ ১৪২৮

মিলনমেলায় উৎসবে মেতেছিলো ‘পরানে আগ্রাবাদ ইউএসএ’

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২১

মিলনমেলায় উৎসবে মেতেছিলো ‘পরানে আগ্রাবাদ ইউএসএ’
“এই মুখরিত জীবনের চলার বাঁকে / অজানা হাজার কত কাজের ভিড়ে / ছোট্টবেলার শত রঙ করা মুখ / সুর তোলে আজও এই মনকে ঘিরে” – কৈশোরের সাথী, পাড়ার সাথী, স্কুল ও কলেজ জীবনের সহপাঠীদের সাথে আত্মার সম্পর্ক গড়ে উঠে। দিন বদলে পালায় এই বন্ধুদেরই একেক জনের ঠাঁই হয় একেক জায়গায়। শৈশব আর কৈশরের সেই আত্মার আত্মীয়দের সাথে মিলতে - যে যেখানে, যত দূরেই থাকুক, কিংবা থাকুক শত ব্যস্ততা, কোন বাধাই যেন বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারে না- সেই বাধা পেরিয়ে এক হওয়ার গল্প উঠে এসেছে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সকল আগ্রাবাদিয়ানদের সংগঠন ‘পরানে আগ্রাবাদ ইউএসএ’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আগ্রাবাদ নাইটে।
গত ৭ আগষ্ট শনিবার, নিউইর্য়কের কুইন্সের হিলসাইড এভিনিউস্থ তাজমহল রেষ্টুরেন্ট ও পার্টি হলে প্রানের মেলায় মনের টানে, মিলের বন্ধনের সাড়া দিয়ে ইউএসএর বিভিন্ন ষ্ট্রেট - নিউইর্য়ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, কার্নেকটিকাট, ম্যাসাচুসেট্‌স, ওহাইহো ও নিউ হ্যাম্প্‌শায়ার থেকে আগ্রাবাদিয়ান পরিবাররা ছুটে আসেন আগ্রাবাদ নাইটে।

সাম্প্রতি ডেলটা ভেরিয়েন্ট করোনা ভাইরাসের সংক্রামন বৃদ্ধির কারনে অনুষ্ঠানে আগত সবাইকে মাস্ক পরে থাকার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি যারা ডাবল ভ্যাকসিনেটেড শুধুমাত্র তারাই আমন্ত্রণ পেয়েছেন বলে জানান আয়োজকরা। বাংলাদেশ এবং আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে কোরআন তেলোয়াত ও তরজমা করেন হাসিন আহমেদ। এরপর কোভিডে-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আমেনা রশিদ চুন্নী ও রোশনা শামস্‌ ললির প্রাণবন্ত উপস্থাপনায়, পরানে আগ্রাবাদ ইউএসএ -এর আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম মাকসুদুর রহমান খান জুয়েল স্বাগত ব্ক্তব্যে বলেন - আমরা যারা আমাদের ছোটকালে আগ্রাবাদে কাটিয়েছে, তারা আজ প্রাণের টানে এখানে ছুটে এসেছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য একটাই, সেই শৈশবের হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষদের একত্রিত করে একটি আনন্দঘন সন্ধ্যা উপভোগ করা। নিউইর্য়কে এবারের আয়োজন সহ এটি চতুর্থ আয়োজন, আশা করছি ভবিষ্যতের কার্যক্রমগুলো আরো প্রাণবন্ত হবে।

স্মৃতিচারণ বক্তব্যে সংগঠক ফরহাদ রেজা বাদশা বলেন - এই কঠিন সময়ে আমরা সবাই যেন একসাথে থাকতে পারি, কোভিডে আমরা আমাদের কাছের অনেকজনকে হারিয়েছি, দোয়া করবেন আমরা যেন ভালো থাকতে পারি, সুস্থ থাকতে পারি এবং আগ্রাবাদিয়ান হিসাবে আমরা যেন গর্ববোধ করতে পারি।

সংগঠক আফসার উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, এই মুহুর্তে মনে হচ্ছে আমি যেন আমার শৈশবের সেই আগ্রাবাদেই আছি, নিউইর্য়কে যে আছি, সেটা মনে হচ্ছে না। এতগুলো পরিচিত মুখ একসাথে দেখার পর, নিজেকে সামলানো অনেক কষ্টকর। আমরা সবাই যদি আমাদের সেই পুরোনো গল্পগুলো করা শুরু করি তাহলে সারারাত চলে যাবে।

বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, সোলসের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও শিল্পী তাজুল ইমাম তার স্মৃতিচারণে বলেন- “যুদ্ধ থেকে যখন ১৬ ডিসেম্বর ফিরে আসলাম আমাদের আগ্রাবাদের বাসায়, তখন সন্ধ্যা। প্লাটুন গাড়িতে বসে আছে, আমাদের সবার হাতে অটোমেটিক গান, আমার ভাইবোনরা আমাকে নিয়ে কাঁদছিলেন, আমাকে নিয়ে উদযাপন করছিলেন বিজয়ের, সেই স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আগ্রাবাদ”। এরপর নিজের লেখা ও সুর করা “পলাশ ফুটেছে, শিমুল ফুটেছে” গানটি খালি গলায় গেয়ে শোনান। এছাড়াও স্মৃতিচারণ পর্বে অংশগ্রহন করেন - নাসিম, জয় আনন্দ ও ইফতেখার।

গান পরিবেশন করেন ফিরোজ আহমেদ এবং কবিতা আবৃত্তি করেন রোশনা শামস্‌ ললি ও জয় আনন্দ। গানে গানে খেলায়, গান ও অভিনয় করে পুরস্কার লাভ করেন- নুরনাহার, মিলি সুলতানা ও নাছরিন শফি। র‌্যাফেল ড্র তে বিজয়ী হলেন: ১ম পুরস্কার- নাসরিন, ২য় পুরস্কার- নীলা, ৩য় পুরস্কার- আতফা, ৪র্থ পুরস্কার- চিশতী, ৫ম পুরস্কার- শাহীন এবং ৬ষ্ঠ পুরস্কার- জাহাঙ্গীর।

সাংস্কৃতিক পর্বে শিল্পীদের একের পর এক চমৎকার গানের পরিবেশনায় সবাইতে মনে করিয়ে দেয় পুরোনো সেই দিনের কথা, ছোট বড় সবাই নিজেদের আসন ছেড়ে মঞ্চের সামনে এসে গানের তালে তালে নাচতে থাকেন, যেন ফিরে গিয়েছেন সেই ছোটবেলায়। পুরোনো বন্ধুদের সাথে দেখা হয়ে অনেকে আবেগেআপ্লুত, অনেকে ফিরে গেছেন পুরোনো সেই স্মৃতিমাখা দিনে। কেউ কেউ ভিডিও কলে অংশগ্রহণ করতে না পারা বন্ধুদের দেখাচ্ছেন। আড্ডা, গান, আনন্দ উচ্ছাসে মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো হল। সঙ্গীত পরিবেশন করেন দেশের ও প্রবাসের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী চন্দ্রা রায় ও ক্লোজ-আপ ওয়ান শিল্পী রাজীব ভট্টাচার্য্য এবং অসাধারণ সাউন্ড সিস্টেমে ছিলেন ফিরোজ।

দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে এমন আয়োজন করতে পেরে খুশি আয়োজকরা। তারা জানান -নিউইর্য়ক সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের সবাইকে একত্রে করার উদ্দ্যোগ এটি। পরাণে আগ্রাবাদের এই আয়োজনে, ইউএসএর পক্ষে যারা নিরলসভবে কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে ছিলেন- বাদশা, বকুল, বাবু, জুয়েল, আতিক, চুন্নী, রুশো, ললি সহ অনেকে। উল্লেখ্য, পরাণে আগ্রাবাদের এই আয়োজন বাংলাদেশ, লন্ডন, কানাডা ও নিউইর্য়ক সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

______________________

আশরাফুল হাবিব মিহির, নিউইর্য়ক
 

আরও পড়ুন

আরও